আন্তঃরাজ্য পরিষদের স্থায়ী কমিটির একাদশ বৈঠক
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ, 10/04/2017, নয়াদিল্লি

আন্তঃ রাজ্য পরিষদের স্থায়ী কমিটির একাদশ বৈঠকে রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিংহ সভাপতিত্ব করেন|বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থ,কর্পোরেট বিষয়ক ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী অরুণ জেটলি ছাড়াও ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ড. রমন সিংহ, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শ্রী মানিক সরকার, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী শ্রী নবীন পটনায়েক এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী যোগী আদিত্যনাথ উপস্থিত ছিলেন|অন্ধ্রপ্রদেশ,রাজস্থান ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীদের বদলে রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রতিনিধিত্ব করেন| একইসঙ্গে এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও বিভিন্ন রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকেন|আলোচনার অগ্রগতিতে সহায়তা করেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং আন্তঃরাজ্য পরিষদ সচিবালয়ের কর্মীরা|

উদ্বোধনী ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রগতির লক্ষ্য নিয়ে আমরা সমবেতভাবে কাজ করছি|আমাদের স্বাভাবিক ও সর্বাত্মক বিশ্বাস, শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকলেই সমৃদ্ধি আসতে পারে|তিনি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে একতাবদ্ধ থাকার ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে আস্থা ও হৃদ্যতা থাকলে আমরা সংকীর্ণ স্বার্থচিন্তার উর্ধে উঠে দেশের বিকাশে বৃহত্তর পরিসরে ভাবনা-চিন্তাকে ছড়িয়ে দিতে পারি|বৈঠকে ২০১৬-র ১৬ই জুলাইয়ের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ নিয়েও বিশেষভাবে আলোচনা হয়| ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ইতিহাস সংক্রান্ত বিষয়ে গঠিত পুঞ্ছি কমিশনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয় ২০০৫-এ| এই কমিশনের রিপোর্ট জমা পড়ে ২০১০-এ|

কমিশনের সুপারিশসম্বলিত সাত খন্ডের এই রিপোর্টে সাংবিধানিক প্রশাসন ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ব্যবস্থাপনার বিষয়, উভয়ের আর্থিক সম্পর্ক ও পরিকল্পনা, স্থানীয় স্বায়ত্ত্ব শাসন ও বিকেন্দ্রীকৃত প্রশাসন ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অপরাধ সংক্রান্ত ন্যায়বিচার ও কেন্দ্র-রাজ্য সহযোগিতার পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিকাঠামো এবং আর্থ-সামাজিক বিকাশ, জনগণ ও সুপ্রশাসনগত নীতির বিষয়ে এই রিপোর্টে বিস্তৃত মন্তব্য ও সুপারিশ করা হয়|সেগুলি আবার আন্তঃরাজ্যপরিষদের সচিবালয়ে বিশ্লেষিত হয়| স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পুঞ্ছি কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে|বিশেষভাবে এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় খন্ডে উল্লিখিত সুপারিশগুলি নিয়ে আলোচনা করা হয় এই বৈঠকে|

এর মধ্যে দ্বিতীয় খন্ডে সাংবিধানিক প্রশাসনে রাজ্যপালের ভূমিকা, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়, ক্ষমতার যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারসাম্য বজায় রাখা, কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে উন্নততর সমন্বয় গড়ে তোলাসহ উভয়পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হয়| সংশ্লিষ্ট রিপোর্টের তৃতীয় খন্ডে কেন্দ্র-রাজ্যের আর্থিক সম্পর্ক, বিশেষভাবে রাজ্যগুলিকে তহবিল হস্তান্তর, পণ্য ও পরিষেবা কর এবং কেন্দ্র-রাজ্য তহবিলগত সম্পর্ক নিয়ে সুপারিশও সম্পৃক্ত করা হয়|এই বৈঠকে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ও প্রশাসনসংক্রান্ত মূল্যায়নের পাশাপাশি সংবিধানের সংস্থানগুলিও যাচাই করা হয়|পুঞ্ছি কমিশনের অবশিষ্ট সুপারিশসমূহ নিয়ে স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা করা হবে বলেও জানা গেছে|সেক্ষেত্রে পণ্য ও পরিষেবা কর সংক্রান্ত আইন, চতুর্দশ অর্থ কমিশনের রিপোর্ট ও নীতি আয়োগ গঠন, কেন্দ্রীয় অর্থানুকূল্যের প্রকল্পে যৌক্তিকতার দিকগুলি নিয়েও আলোচনা হবে|প্রসঙ্গতঃ এই বৈঠকে চূড়ান্তভাবে গৃহীত স্থায়ী কমিটির সুপারিশসমূহ পরবর্তী সময়ে আন্তঃরাজ্য পরিষদের সামনে উপস্থাপিত হবে|