উত্তর পূর্বে জি এস টি চালু নিয়ে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত বৈঠকে নেতৃত্ব দিলেন ডোনার প্রতিমন্ত্রী
নয়াদিল্লি, 20/06/2017, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

কেন্দ্রীয় ডোনার সহ অন্য বিভিন্ন মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিংহ জানিয়েছেন, পণ্য ও পরিষেবা কর ব্যবস্থা চালু হলে ১লা জুলাইয়ের পর থেকে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর করের বোঝা কমে যাবে। এর ফলে দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষজনকে বর্তমান হারের তুলনায় কম কর দিতে হবে। নয়াদিল্লিতে ডোনার মন্ত্রকের আধিকারিক এবং আট উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের দিল্লি ভিত্তিক রেসিডেন্ট কমিশনারদের বৈঠকে সোমবার তিনি একথা বলেন।

তিনি এই প্রসঙ্গে আরও জানান, গুঁড়ো দুধ, দই, লস্সি বা ঘোল, বাটার মিল্ক, চিজ, মশলা, চা, গম, চাল, ময়দা, সয়াবিন তেল, সর্ষের তেল, মিনারেল জল, বরফ, কয়লা, রান্নার গ্যাস, দাঁত মাজার পেস্ট বা পাউডার, সাবান, চিকিৎসার প্রয়োজনে লাগে এমন ইনসুলিন, এক্স রে প্লেট, চশমার কাচ সহ নানারকম জরুরি প্রয়োজনের সামগ্রীর ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রকৃতপক্ষে কম কর দিতে হবে। কোন কোন পণ্যে আপাতত: করের হার বেশি মনে হলেও সার্বিকভাবে সেই পণ্যের দাম কমই পড়বে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। বেশ কিছু পণ্যের করের হার ‘শূণ্য’ থাকবে বলেও জানান ড. সিংহ।

উত্তর-পূর্বে ইন্টারনেট সংযোগের প্রশ্নে তিনি বলেন, বেশ কিছু সহজতর বিকল্প খুঁজে বের করা হচ্ছে। তাছাড়া ইন্টারনেট সংযোগের বিষয়টি মূলত: নাম নথিভুক্তকরণ ও লগ-ইন-এর সময়ই জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ব্যবসায়ী এবং অন্যদের জন্য এই সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ২০ শে আগস্ট, ২০১৭-র মধ্যে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা থাকবে। পরবর্তী সময়ে ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ পর্যন্ত পুনরায় সুযোগ পাওয়া যাবে। এরপরেও নিয়ম অনুযায়ী প্রতিমাসেই নথীভুক্ত করানোর ব্যবস্থা থাকবে বলে তিনি জানান। প্রসঙ্গত: এব্যাপারে নতুন নথিভুক্তির সূচনা হচ্ছে ২৫শে জুন থেকে।

ড. সিংহ এ-ও জানান, উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে এই সংক্রান্ত দুই দিনের প্রশিক্ষণ শিবির নিয়মিতভাবে শিলঙে আয়োজিত হবে। পণ্য ও পরিষেবা করের নিয়মকানুন ও অন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগতির জন্য সমপর্যায়ের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ফরিদাবাদে আয়োজিত হচ্ছে বলে্ও তিনি জানান। উত্তর-পূর্ব সহ সারা দেশে পণ্য ও পরিষেবা কর (জি এস টি)কমিশনারের কার্যালয়গুলিতে ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোগী এবং অন্য স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে জি এস টির প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আধিকারিকরা সক্রিয় থাকবেন বলেও ডোনার প্রতিমন্ত্রী নিজের ভাষণে উল্লেখ করেন।

তিনি উত্তর পূর্বে কর হারে ছাড়ের উর্ধসীমা ১০ লক্ষ টাকা করার বিষয়ে জানিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের মতো রাজ্যে তা তিন লক্ষ, দু’ লক্ষ এবং ছয় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছিলো। তিনি পণ্য ও পরিষেবা কর চালুর বিষয়টির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, ঘুষ ও দুর্নীতির বিপদ থেকে চিরতরে মুক্তির জন্যও এই নিয়ম চালু হওয়া জরুরি।